কোথায় গেল ভালবাসা?

আজকালকার দিনে ভালবাসাটাকে দেখাই যায় না যেন।

কোথায় গিয়ে যে বসে থাকে, কে জানে। আমি অবশ্য

খুঁজেও দেখিনি তেমন করে। কিন্তু গেলটা কই, ভালবাসা?

 

রফিক সাহেব। বন্ধু মানুষ, কবির মত সারাক্ষণই তার

উড়ু উড়ু ভাব। কবিতার বই, ছাপানো হয়েছিল হয়তবা

দু’ একটা, তাই গিয়ে জিজ্ঞেশ করলাম; ভালবাসার

খবর। জানতে চাইলাম, ‘কই গেল ভাই; ভালবাসাটা?’

রফিক সাহেব; সারাখণই তো কবিতা গুড়ু গুড়ু কনে মনে,

দুলে দুলে বলে উঠলেন, ‘ভাল নাইরে ভাই, ভাল নাই,

কিছুই আর ভাল নাই, সেই ফজলি আমও নাই,

সেই ভালবাসাও নাই।’ আমি তো আর কবি না, দু’ এক

লাইন লিখতাম হয়ত কখনো কখনো, তাই কথাটা বুঝলাম না।

13. December 2011 by Rātul
Categories: অসম্পূর্ণ, কবিতা | Tags: , , | Leave a comment

আমার কথা

আমি রাতুল। রাতুল মানে লাল, কষ্টের রং।

আমি একটা বেসরকারি ভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্সে পড়ছি। ইচ্ছা ছিল বড় প্রোগ্রামার হব। এখন খুবেকটা জানি না কি হব। কিছু না কিছু তো হবই। কিন্তু সেটাই কি ”আমি”?

লেখালেখি করতে ভাল লাগে। কিন্তু লেখতে ভাল্লাগে না। খুবই আলসে ছেলে আমি। তবে নতুন কিছু তৈরী করতে বেজায় আগ্রহ আমার। আর ভাললাগে আমার কাজগুলো মানুষকে দেখাতে। সেজন্যই এ ব্লগ।

নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভাল  লাগে আমার। কিন্তু মাঝে মাঝে ভাবি, এত মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে কি লাভ? সবাইকে তো আর সময় দেয়া হয়ে উঠে না। অথচ পরিচিতির গন্ডী তো জ্যামিতিক হারে বাড়ছে দিনে দিনে। তাই চেষ্টা করি কাছের মানুষদের কাছে টেনে রাখতে। দুরের মানুষদের মানুষ হিসেবে ভালবাসতে।

ভাল লাগে আরো অনেক কিছুই। বেড়াতে যাওয়া, ছবি আঁকা, ডায়রী লেখা, নতুন রেসিপির খাবার খাওয়া, আরো কত কি! মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটাতে ভাল না লাগার মত কি এমন আছে?

আবার, ঘৃণা করি অনেক কিছুই। তার মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণা করি মিথ্যা। যারা কথায় বা কাজে, আমার সাথে বা অন্যের সাথে মিথ্যাচারের সুযোগ নেয়, তাদের আমি শ্রেফ মন থেকে মুছে ফেলি। নিজে সৎ থাকার চেষ্টা করি, সবকিছুতে, সবার সাথে; সর্বপরি, নিজের সাথে।

06. May 2011 by Rātul
Categories: আমার কথা | Tags: | 4 comments

এলোমেলো আলাপচারিতা – ২

আমার সাথে আমার কথোপকথন।
আমার কখন মনে হয় আমার গার্লফ্রেন্ড দরকার?
-এটা সত্যিই একটা যুগোপযোগী প্রশ্ন।
না, আমি কখনই বলব না, আমার অবস্থা এখন খুবই খারাপ, কারণ ওতে কিছু হবে না, কারণ ওতে সত্যিই কিছু হবে না, ওতে আমি সত্যিই পায়েশ খেতে পারব না…
-আমি এখন দুটা মোম জ্বালিয়ে রেখেছি। কিন্তু এটা সত্যিই আজব কাস্টম, মানে মোমের শিখার নিচে য়খন মোম থক থক করে, মানে থিক থিক করে, আবার থক থক করে, তখন মোমটা কেমন যেন  চিক চিক করে…
কিন্তু একটা জিনিশ কি, আমার গা’টা এখন ঘামে লিক লিক করছে; কিন্তু ‘খেতে’ বানানটা ‘খ’ দিয়ে লিখতে হলেও, ‘ক্ষিধে’ লেখতে হবে ‘ক্ষ’ দিয়ে, ডিকশনারিতে দেখলাম কালকে…
-হুম্, ডিকশনারিতে তো আরো লিখেছে নারী মানে woman নাকি an female human, সেটা তাহলে কি?
অবস্যই strange custom, কারণ woman-এর বদলে তো ‘yo-man!’-ও বলা যেত; কিন্তু তাতে, মানে–
Yo-yo’র কথা বলছো?
-হ্যাঁ হ্যাঁ, কিন্তু কেও যদি ঔটার লম্বা সুতা ‘পৈতা’র মত গায়ে জড়িয়ে রাখে- তাহলে- আসলে যে কি হবে তা আমি নিজেও ঠিক জানি না…
-অবস্যই ঘামে লিক লিক করবে, চিক চিক করবে। থক-থক-থক-থিক-থিক করবে, কারণ নাকের সর্দিতে ওটা ভিজে যাবে, আর নাকের-
সর্দিতে কিন্তু লবণ থাকে; জার্নালে বলেছে; বেশি সর্দি পড়লে স্যালাইন খেতে।
-আমি জানি, আমি জানি, তিনাংগুলের এক চিমটি লবণ আর এক মুঠো চিনি আর থক থকে পানি…
কিন্তু আমি দেখেছি নাকের পানি দিয়ে গোসল করা যায়না; নাকের পানি কেমন যেন গুই-গুই-ইকি-ইকি হয়, কেমন ইকি ইকি হয়…
-’ইকো’র মিথটা জানো? নিম্ফটার কথা বলার পর্যন্ত ক্ষমতা ছিল না, শুধু বলতে পারত অন্যের বলা শেষ কথাটা।
কিন্তু আমার শেষ কথা ছিল ‘পাঁচ টাকা’…
-হ্যাঁ, তা হতে পারে, কারণ আমিই তার ব্যবস্থা করেছিলাম; ইকো’র কথা আমিই বলেছিলাম, তার কানে আমিই শুঁড়শুঁড়ি দিয়েছিলাম…
আর আমার এক কাজিন কান দিয়ে শুঁড়শুঁড়ি দেয় আর হাঁচে, মানে কান দিয়ে দেখে আর নাক দিয়ে খায়,
-সেটাও হতে পারে, কারণ কানে ফুঁটো আছে, তবে ফুটো নেই; তবে কান কেন চুলকায়? কান তো চুলকানোর কথা না, কারণ, আমি তো কান দিয়ে হাসি না…
কিন্তু আমার একটা যে মেয়ে দরকার, দরকার, মানে একটা গার্লফ্রেন্ড দরকার; কারণ মেয়ে দরকার, কারণ আমার ত গার্লফ্রেন্ডের সাথে হাসাহাসি করতে হবে, তাই না?
-অথচ ব্যয়বহুল বিনোদন প্রথা আরো কত আছে, এই যেমন ধরো গার্লফ্রেন্ড রাখা,অথবা গার্লফ্রেন্ড থাকা, কিংবা গার্লফ্রেন্ড রাখা,
- তাইতো বলছি, একটা মোম নিভিয়ে দেওয়া দরকার, কারণ থক-থক-থক-থিক-থিক করছে যে; কারণ থক থকিয়ে থিক থিক থিক করছে, কারণ…
তাইতো, তাইতো…
-অফ্ফুহ–

তারপর সব অন্ধকার।

20. February 2010 by Rātul
Categories: কড়চা থেকে... | Tags: , | Leave a comment

এলোমেলো আলাপচারিতা – ‍১

বাসটা দুরন্ত গতিতে চলার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন স্টপেজে থামছিল। একটা স্টপেজে এক যুবক উঠল, যার বয়স সাতাশ কি আটাশ।

সে গিয়ে বসল ডান সারির তিন নম্বর সিটে, জানলার দিকে বসা একটা মেয়ের পাশে। মেয়েটা একবার তার দিকে তাকিয়ে তুচ্ছার্থকভাবে চোখ ফিরিয়ে নিল। তারপর আপন মনে কিছু ভাবতেই ফট করে আবার ছেলেটার দিকে তাকালো।

 

“আচ্ছা, আমি কি আপনাকে চিনি?”

-”জানেন, গিয়েছিলাম বিল দিতে। ইয়া লাম্বা লাইন।”

“অবস্য অনেককেই আমার চেনা চেনা লাগে।”

-”কিন্তু কারেন্ট না থাকলে অনেক সমস্যা।”

“তাদের কিন্তু আমি কখনোই ফোন নাম্বার দেই না।”

-”কিন্তু বিল দিতে হয়।”

“তাই বলে কি আমি সামনের সিটে টেকো আংকেলটাকে “এক্সকিউজ মি” বলব না?’

-”তবে বেসরকারী ব্যাংকের মেয়েগুলোকে আমার বেশি ভাল লাগে, কেমন পরিপাটি…”

“হয়ত আমার মা ঐ লোকটার কাজিন।”

-”কিন্তু তা তো হতে পারে না, আমি তো বিল দিয়ে আসলাম।”

“অথচ বিটিভি-তে এখন দুপুর বারোটার খবর দিচ্ছে।”

-”অবস্য নাটক না করলেই য়ে শিমুকে আমার মা খুবেকটা পছন্দ করবে তা না।”

বাস একটা স্টপেজে এসে থামল। ছেলেটা উঠে দাঁড়ালো। বলল,

“আবার দেখা হবে।”

-”গতবারের বন্যায়?”

“নাহ্, কথাটা ‘ফির মিলেংগে’।”

-”সালাম নামাস্তে।”

“ছোট খালার বাসাটা যেন কোথায়…”

ছেলেটা নেমে গেল। বাসটা আবার চলতে লাগলো।

এসব শুনে কাজের মেয়েটা আমার কাছে জানতে চাইল, ওরা বয়রা কি না।

06. February 2010 by Rātul
Categories: কড়চা থেকে... | Tags: , | 3 comments

আমি ভালবাসি কবিতা

আমি ভালবাসি কবিতা। কারণ কবিতা মেটায়
আমার প্রাণের পিয়াসা।

কবিতাকে আমার মনে হয় কোন বারবনিতা;
আমায় মুগ্ধ করে রাখে; তার রূপে, সুরে, গন্ধে।
তার হাসির শব্দে; আমি ভুলে যাই আমার
আমিকে; আমি বিভোর হই, তার কথার ভঙ্গীমায়।
আমি; আমার শত গ্লানি ভুলে যাই, তার কাছে
এসে; তার নরম হাতের স্পর্শে, আমি হারিয়ে যাই;
যখন নিজেকে হারাতে চাই।

কবিতা, কবিতা; আমি ভালবাসি কবিতা।
আমার কাছে সে রুপপোজীবিনী, এক বারবনিতা।

সকাল সাড়ে ন’টা।
১ আশ্বিন, ১৪১৫।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।

16. September 2008 by Rātul
Categories: কবিতা | Tags: , | 1 comment

নাফিসা মিসের জন্য ভালবাসা

নাফিসা মিসকে দেখার পর থেকেই আমার

মন শুধুই কেমন যেন করে।

যেদিন প্রথম মিসকে দেখলাম আমি,

সেদিন থেকেই এই কেমন করার শুরু। সেদিন

মিস সেদিন পড়ে এসেছিলেন নীল শেডের সাদা

সেলওয়ার কামিজ। মিসকে দেখার পর

থেকেই আমি মনে মনে গুন গুন করে

গাইতে লাগলাম-

‘সাদা গোলাপের শুভ্রতায়,

দেখেছি আমি তোমায়!’

তারপর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি-ই।

মনে হয় মিসের প্রেমে পড়ে গেছি।

যেদিন এই কথাটা মনে হল, নিজেকে

খুব বোকা বোকা লাগল।

আমার কীনা প্রেমে পড়ার কথা

ষোল বছরের কোন কিশোরীর, আর

আমি কীনা প্রেমে পড়লাম তার

থেকে আরো দশ বছরের বড় যুবতীর।

কিন্তু না, ভেবে দেখলাম এই প্রেম

আর সেই প্রেমে বিস্তর তফাত।

একে প্রেমে পড়া বললে ঠিক হয় না,

ব্যাপারটা অনেকটা মুগ্ধ হবার মত।

আসলেই তাই; মিসের হাত নাড়ানোর

অপূর্ব ভঙ্গী(মা), কথা বলার আশ্চর্য

সূর, সবই আমার ভাল লাগে।

মিসের সব কিছুই আমার কাছে

প্রাকৃতিক নৈশর্গ্যের মত মনে হয়।

মিসের সব কিছুতেই কেমন যেন

বনদেবী বনদেবী গন্ধ।

এমন কি সেদিন যে বৃষ্টিতে ভিজে

মিস এসেছিলেন, তাঁর চুল থেকে

পড়া পানির ফোঁটাগুলোও বনদেবীর

আশীর্বাদের মত মনে হচ্ছিল।

সত্যিই কি তাহলে আমি নাফিসা

মিসের প্রেমে পড়ে গিয়েছি? নাকি মুগ্ধ হয়েছি মাত্র?

বুধবার

৫ ভাদ্র, ১৪১৫

২০ আগস্ট, ২০০৮

Continue Reading →

20. August 2008 by Rātul
Categories: কবিতা | Tags: , , | 4 comments